একটি হিন্দু-মুসলিম বিবাহ, হিন্দুত্ববাদী ষড়যন্ত্র ,আক্রমণ এবং পুলিশের একপক্ষীয় আচরণ ও বেআইনি গ্রেফতার, আটক

নদীয়ার হাঁসখালীতে দুই ভিন্ন সম্প্রদায়ের যুবক যুবতীর বিবাহ- সুযোগ বুঝে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে সাম্প্রদায়িক শক্তি। একটি যৌথ প্রতিবেদন।

নদীয়ার হাঁসখালীতে দুই ভিন্ন সম্প্রদায়ের যুবক যুবতীর বিবাহ- সুযোগ বুঝে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে সাম্প্রদায়িক শক্তি

 

গত ২৯.৮.২০২০ তারিখে ফেসবুক সামাজিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই ভিডিওটি থেকে আমরা জানতে পারি নদীয়া জেলার হাঁসখালী থানার মামজোয়ান গ্রামের জয়িতা হালদার পাশের গ্রাম ধানতলা থানার হাজরাপুর গ্রামের ফুরকান আলী মন্ডলকে ৩.২.২০২০ তারিখে বিয়ে করেন। জয়িতা ধর্ম পরিচয়ে বিবাহ পূর্বে হিন্দু ছিলেন এবং ইসলামী শরিয়তি আইনে বিয়ে করার দুদিন আগে তিনি ধর্ম পরিবর্তন করেন, তার বর্তমান নাম আয়েষা মণ্ডল। ভিডিওটিতে দেখা যায় আয়েষা (জয়িতা) -কে হাঁসখালী থানার ওসি জিজ্ঞাসাবাদ করছেন ও তার প্রশ্নের উত্তরে আয়েষা জানাচ্ছেন তিনি প্রাপ্তবয়স্কা, বিএড করছেন, সম্পূর্ণ সজ্ঞানে স্বেচ্ছায় ভারতীয় আইনে ন্যায়সঙ্গতভাবে ফুরকান আলী মন্ডল কে-বিয়ে করেছেন। থানায় তার বাবা ও ভাইয়ের উপস্থিতিতেই তিনি জানাচ্ছেন যে তিনি বাবার সাথে যাবেন না বরং তিনি তার স্বামীর কাছে যেতে চান। এক্ষেত্রে লক্ষণীয়, ভিডিওটি তে স্পষ্ট ওসি নিজে আয়েষা-র মত পরিবর্তন করার চেষ্টা করছেন বাবার সাথে তাকে ফিরে যেতে বলছেন,এই বিয়ের ফলে দুই গ্রামে সাম্প্রদায়িক সমস্যা তৈরী হতে পারে তার এই ব্যক্তিগত ধারণা আয়েষা-র উপর চাপিয়ে দিতে চাইছেন, এবং এই ভিডিওটিতে কোথাও দেখা যাচ্ছে না যে- ভিডিওটি যে জনসমক্ষে আনা হবে তার অনুমতি থানায় উপস্থিত আয়েষা বা তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা ওসি-কে দিচ্ছেন (informed consent)। তারপরেও ভিডিও-টি গণমাধ্যমে (ফেসবুকে) আনা হয়েছে এবং অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়, তারপর থেকে গত কয়েকদিনে এই ভিডিও-কে কেন্দ্র করে সমস্ত মুসলিম যুবকেরা হিন্দু মেয়েদের বিরুদ্ধে 'লাভ জিহাদ' চালাচ্ছে এবং ফুরকান-আয়েষার(জয়িতা) বিয়েও এরকমই একটি বিবাহ এই বলে নানা প্ররোচনা মূলক বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে (যেমন Hindu Communist National Revolution নামের একটি সংগঠনের তরফে জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তি প্ররোচনা ছড়াচ্ছেন)। *নিচে লিংক দেওয়া হলো।

এইরকম উদ্বেগ জনক পরিস্থিতিতে গত ২.৯.২০ তারিখে ‘এ পি ডি আর কৃষ্ণনগর শাখা’ ও ‘আমরা, এক সচেতন প্রয়াস’-এর তরফ থেকে আমরা ধানতলা থানার হাজরাপুর গ্রামে ফুরকান আলী মন্ডলের বাড়িতে যাই। বাড়িতে ফুরকান ও আয়েষা-কে না পেলেও আমরা কয়েকজন প্রতিবেশীর উপস্থিতিতে ফুরকান আলীর বাবা কিরণ আলী মন্ডল এবং ফুরকানের দাদী-র সঙ্গে কথা বলি। তারা আমাদের জানান বিয়ের পর থেকেই ফুরকান ও আয়েষা আলাদা থাকেন। এই বিয়েকে কেন্দ্র করে তারা নানা ভাবে ভীষণ সমস্যার মধ্যে আছেন। এমনকি গত কয়েকদিন আগে(২৪/৮ বা ২৫/৮,তারিখটি তারা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেন নি) আয়েষা-র গ্রাম মামজোয়ান থেকে প্রায় ১০০-১৫০ জনের উন্মত্ত একটি দল মদ্যপ অবস্থায় তাদের বাড়িতে রাত ১১টার সময় হামলা করে। তারা ফুরকান ও আয়েষা-র খোঁজ চালায় এবং তাদের না পেয়ে বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং কিরণ আলীর অসুস্থ স্ত্রী ও মাকে অপহরণ করার হুমকি দেয়। কিরণ আলী বাড়িতে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। আবার পরের দিন রাত ৯টার সময় ধানতলা থানার পুলিশ ফুরকান আয়েষা-র খোঁজে কিরণ আলীর  বাড়িতে আসে এবং ফুরকান কে না পেলে তাকে ছাড়বে না এই বলে তার স্ত্রী মিনিকা মণ্ডল-কে (কোনও মহিলা পুলিশ ছাড়াই) থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। থানায় সারারাত জেরা ও মানসিক অত্যাচারে মিনিকা মন্ডল আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরের দিন কিরণ আলী পুলিশের কাছে অনেক অনুরোধ করে তার স্ত্রী-কে বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিরণ আলী জানান তাদের গ্রামে হিন্দু মুসলিম এই দুই সম্প্রদায় এতদিন যথেষ্ট সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে বসবাস করে এসেছে। এখনও সে সম্পর্ক অটুট আছে। বিপদের দিনে তার প্রতিবেশীরাও তার পাশেই আছেন। এর আগেও এই গ্রামে দুই-সম্প্রদায়ের বিয়ে হয়েছে। কিন্তু কোনও সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরী হয়নি। কিরণ আলী ও তার প্রতিবেশীদের মতামত পাশের গ্রাম মামজোয়ান-এর নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির সক্রিয় মদতে এই উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রাপ্তবয়স্ক ফুরকান ও আয়েষা পরস্পরকে ভালবেসে নিজেদের সিদ্ধান্তে এই বিয়ে করেছেন, কিন্তু উপুর্যপরি ঘটনার চাপে কিরণ আলী ও তার পরিবার দৃশ্যতঃই  আতঙ্কিত ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। উপস্থিত গ্রামবাসীরা জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ফুরকান-আয়েষা বিয়ে করার এতদিন পর সম্প্রতি মামজোয়ান গ্রামের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের লোক আয়েষা( পূর্বের নাম জয়িতা হালদার)-র বাবাকে ফুরকানের পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ও এই বিয়ে অস্বীকার করার জন্য চাপ দেয় এমনকি নিগ্রহও করে।

তাদের চাপে পরবর্তীতে আয়েষা-র বাবা বাসুদেব হালদার  হাঁসখালী থানায় মেয়ে নিরুদ্দেশ জানিয়ে (Missing diary No-713,Dated-২৪.৮.২০২০) অভিযোগ করেন। কিরণ আলী জানান এমতাবস্থায় ফুরকানের মামা ফুরকান ও আয়েষা-কে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় নিয়ে আসেন, সেখান থেকে ফুরকানকে ধানতলা থানায় ও আয়েষাকে হাঁসখালী থানায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তাদের ঠিকানা কেউই জানেন না।

এই ঘটনায়  তথ্যানুসন্ধানে যাওয়া দলটি নির্দিষ্টভাবে কিছু প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে :

১) প্রথমতঃ ফুরকান ও আয়েষা-র বিয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে হলেও প্রায় ৬ মাস পরে কেন এই বিয়েকে কেন্দ্র করে নতুনভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরী করা হচ্ছে?

২) ওই দিন ধানতলা থানার পুলিশ রাত ৯টায় কোনও মহিলা পুলিশের সাহায্য ছাড়া ফুরকানের মা মিনিকা মণ্ডল-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছিলো। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। পুলিশ কি করে এই বেআইনি আটক করলো? অথচ আগের রাত্রে কিরণ আলী-র বাড়িতে যারা তান্ডব চালায় তারা বিনা বাধায় গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমনকি এই বিয়ের ঘটনাকে সূত্র করে মামজোয়ান গ্রামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে মসজিদে নামাজ পড়তে বাধা দেওয়া থেকে ধর্মীয় পরব উৎসবে অংশ নিতেও বাধা দিচ্ছে ওই বিশেষ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা লুম্পেন বাহিনী।

৩) সর্বোপরি, ফুরকান আলী মণ্ডল ও আয়েষা মন্ডল দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক যুবক যুবতীর পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্মতিতে হওয়া আইনানুগ একটি বিবাহকে ঘিরে হাঁসখালী ও ধানতলা থানার পুলিশ, গ্রামের রাজনৈতিক মদতপুষ্ট দুর্বৃত্তরা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এমন উত্তেজনা তৈরী করছে কেন?

-  অদূর ভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার ও ধর্মীয় আগ্রাসনের উন্মত্ত রূপ নেওয়ার আশঙ্কা নিয়ে পরবর্তীতে আমাদের তরফ থেকে নদীয়া ও রানাঘাট পুলিশের সুপারিন্টেনডেন্টকে জানানো হয়, এবং এলাকায় ছড়াতে থাকা বিদ্বেষ ও আগ্রাসনকে অবিলম্বে প্রতিহত করা ও ধানতলা ও হাঁসখালীর থানার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।

১৪ই সেপ্টেম্বর আমরা দ্বিতীয়বার  তথ্যানুসন্ধানে যাই জয়িতা হালদার ওরফে আয়েষা মন্ডলের বাড়ি । গ্রাম মামেজায়ান, থানা হাঁসখালি। বাড়িতে জয়িতার বাবা ও মায়ের সাথে আমরা প্রাথমিকভাবে কথা বলতে পারি। বাবা বাসুদেব হালদার, পেশায় মৎস্যজীবী। সামান্য পরিমান জমিও আছে, চাষবাষ করেন। তিনি জানান তাদের মেয়ে জয়িতা পড়াশোনায় ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলো এবং পড়াশোনার প্রতি যথেষ্ট একাগ্ৰতা ছিলো। উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফল করে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক হয়। কিন্তু ফুরকান আলী মন্ডলের সাথে তার সম্পর্কের বিষয়ে তারা কেউই অবহিত ছিলেন না। এরকম ঘটনা যে ঘটতে পারে সে সম্পর্কে তারা কিছু  আন্দাজও করতে পারেননি। এই বিয়ে তারা মেনে নেবেন কিনা জানতে চাওয়ায় তিনি প্রথমেই উল্লেখ করেন সমাজের আপত্তির কথা। জানান, এই বিয়ে তারা মেনে নিলে গ্রামীন সমাজ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তাছাড়া জয়িতা যেহেতু ধর্ম পরিবর্তন করে নিজের নাম পরিবর্তন করেছে(আয়েষা মণ্ডল) সেহেতু তাকে মেনে নেওয়ার আর প্রশ্নই নেই। জয়িতার মা বাবার বিরুদ্ধে না গেলেও সন্তান হারানোর যন্ত্রনায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, প্রতিবেশীরা বলছে তার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। ফুরকান ও তার পরিবারের কাছে তিনি আমাদের মাধ্যমে আবেদন জানাতে চান, ‘আমার মেয়ে যেখানেই থাকুক যেভাবেই থাকুক যেন বেঁচে থাকে’। তথ্যানুসন্ধানকারী দলের সদস্যরা তাকে আশ্বস্ত করেন যে তাদের বিশ্বাস জয়িতা নিরাপদে আছে কারণ  কোনও অঘটন ঘটেল থানার মাধ্যমে তারা জানতে পারতেন। তিনি জানান, জয়িতা গত ২৩শে আগস্ট সকাল বেলা বাড়ি থেকে ল্যাপটপ সারানোর কথা বলে বের হয়। তারপর দীর্ঘক্ষণ বাড়ি না ফেরায় তাকে ফোন করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তারপর আর কোনও খোঁজ না পাওয়ায় পরের দিন অর্থাৎ ২৪শে আগস্ট তার বাবা হাঁসখালী থানায় মেয়ে নিরুদ্দেশ জানিয়ে ডায়েরী করেন। কিন্তু জয়িতা আর ফুরকান যে গত ফেব্রুয়ারি মাসেই বিয়ে করে নিয়েছিলো সে কথা তারা জানতেন কিনা এই প্রশ্নের উত্তরে তারা জানান কিছুই জানতেন না। এই কথোপকথন চলার সময়েই  জয়িতার ভাই বাড়িতে ফিরে আসে এবং তথ্যানুসন্ধানকারী দলের সাথে কথা বলে। তখন সে জানায় এই ঘটনার পরে ২৬তারিখ ‘বিশ্বহিন্দু পরিষদের’ কিছু স্থানীয় কর্মী জয়িতার বাড়িতে দল বেঁধে যায় ও জানায় যে তাদের কাছে খবর আছে জয়িতা একটি মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করেছে। জয়িতাকে জোর করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনবার জন্য তার বাবা ও ভাইকে তারা চাপ দেয় অন্যথায় জয়িতা কোনও দিন গ্রামে ফিরলে তাকে হেনস্থা করা হবে এমন হুমকিও দেয়। যদিও জয়িতার ভাই ওই ভিএইচপি কর্মীদের কথার প্রতিবাদ করে ও জানায় তার দিদি প্রাপ্তবয়স্ক সে আইন মেনে বিয়ে করে থাকলে এভাবে জোর করতে তারা পারবে না, তাহলে আগে এই বিয়ে বাতিল করতে তারা আইন বদলাক। কিন্তু ইতিপূর্বেই সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক-এর একটি পোস্ট মারফত সবাই জেনেছেন যে গত ২৪ আগস্ট মামজোয়ান গ্রাম থেকে জয়িতার বাবা বাসুদেব হালদার, ভাই চন্দন হালদার এক আত্মীয় অজয় হালদার ও স্থানীয় প্রতিবেশী শ্যামাচরণ হাইস্কুলের সভাপতি সুহাস ব্যানার্জি

হাঁসখালী থানায় জয়িতাকে ফিরিয়ে আনতে যান ও জয়িতার দৃঢ় অবস্থানে তারা পিছু হটতে বাধ্য হন। আমরা জয়িতা (বর্তমানে আয়েষা)-র সতেরো বছরের ভাই চন্দন এর সঙ্গে কথোপকথন কালে তার মধ্যে উদ্বেগজনক ভাবে তীব্র মুসলমান বিদ্বেষ দেখতে পাই ও সে স্পষ্ট জানায় যেহেতু তার দিদি ভিন্ন ধর্মে বিয়ে করেছে তাই কোনও ভাবেই তারা দিদিকে আর নিজেদের পরিবারের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেবেনা। তার কথায় সামাজিক চাপে পরিবারের সদস্যকে হারানোর বিচ্ছেদ যন্ত্রনা থাকলেও তার দিদি নিজের কৃতকর্মের জন্য যে আর কোনওভাবেই হিন্দু সমাজে গ্রহণযোগ্য নয় এটাও সে স্পষ্ট ভাবেই তার মত হিসেবে জানায়।

এরপর আমরা পার্শ্ববর্তী হাজরাপুর গ্রামে, ফুরকান আলী মন্ডলের বাড়ি দ্বিতীয় বারের জন্য যাই। (এর আগে প্রথম তথ্যানুসন্ধান দল ২.৯.২০ তারিখে তার বাড়ি যায়)। এই দিন ফুরকানের বাবা কিরণ আলী মন্ডল বাড়িতে না থাকলেও আমাদের যাওয়ার কথা জেনে আমাদের সাথে তার স্ত্রী-র ফোন মারফত কথা বলেন। উল্লেখ্য এই দিন আমরা ফুরকান এর মা মিনিকা মন্ডল (যাকে অবৈধভাবে আটক করার ব্যাপারে আমরা আগেই জেনেছিলাম ও পুলিশ প্রশাসনের ব্যাখ্যা দাবী করি)-এর সঙ্গে কথা বলি। কিরণ আলী ফোনে আমাদের জানান, গত ৯ই আগস্ট রাত ১১টা নাগাদ তার বাড়িতে আবার কিছু অজ্ঞাতপরিচয় লোক এসে দরজায় ধাক্কা দেয়।

তাদের বাইরে আসতে বলে কিন্তু তারা ভয় পাওয়ায় অতো রাতে বাইরে বের হননি। তারা কিছুক্ষণ বাইরে থেকে চেঁচামেচি গালিগালাজ করে চলে যায়। পরে ১৩ই সেপ্টেম্বর তিনি এই দিনের ও আগেরবারের হামলা নিয়ে ধানতলা থানায় অভিযোগ করেন। কিরণ আলী এও জানান যে ধানতলা থানার অফিসার ইন চার্জ ইতিমধ্যে আয়েষা (জয়িতা) ও ফুরকানের সঙ্গে দেখা করে তাদের যে কোনও অসুবিধায় তার সাথে যোগাযোগ করার আশ্বাস দিয়েছেন। পরবর্তীতে আবারও ফোনে যোগাযোগ করে কিরণ আলী আমাদের অনুরোধ করেন তার পুত্রবধূ আয়েষা বা জয়িতা যাতে বিনা বাধায় পড়াশুনা করে চলতে পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সাহায্যের ব্যবস্থা যদি আমরা করতে পারি।

এক্ষেত্রে, এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা দরকার যে ইতিমধ্যে 'এপিডিআর' ও 'আমরা এক সচেতন প্রয়াস'-এর পক্ষ থেকে SP নদীয়া ও SP রাণাঘাট কে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এই দুই সংগঠনের পক্ষ থেকেই কিরণ আলী মন্ডলের বাড়ির ওপর দুষ্কৃতীদের হামলার বিরোধীতা করে ফুরকান ও কিরণ আলীর পরিবারের সকলের জীবনের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দেওয়ার দাবী জানানো হয়। একইসাথে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের আইনসম্মত বিয়েকে কেন্দ্র করে পাশাপাশি দুই গ্রামের দুটি ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে যাতে কোনও বিদ্বেষ উত্তেজনা না ছড়ায় সে বিষয়ে প্রশাসনিক তৎপরতার দাবীও জানানো হয়।

ওই দিন এরপর তথ্যানুসন্ধানকারী দলের সদস্যরা ধানতলা থানায় যান, থানার ওসি দেখা না করলেও ফোনে জানান যে ফুরকানের পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ তার উপরে আছে। ওসি ধানতলাকে ওই রাত্রে হাজরাপুর গ্রাম থেকে বেআইনি ভাবে ফুরকানের অসুস্থ মাকে আটক করার ব্যাপারে এবং সার্বিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান ওই রাত্রেকে ফুরকানের মা কে থানায় তুলে আনেন এটাও তিনি জানেন না এবং খোঁজ নেবেন আশ্বাস দেন। 

পরিশেষে, আমাদের উপলব্ধি ধারাবাহিকভাবে আমরা আয়েষা ও ফুরকানের বিবাহ ও তাকে কেন্দ্র করে তৈরী হওয়া অবাঞ্ছিত পরিস্থিতিতে নজর রেখে চলায় প্রশাসনের তরফেও কিছুটা সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে এবং এস পি অফিস থেকে ধানতলা ও হাঁসখালী দুই থানার কাছেই দুটি পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ পৌঁছেছে (এই মর্মে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা আমাদের মৌখিকভাবে জানিয়েছেন)।

*(এই তথ্যানুসন্ধান 'এপিডিআর' কৃষ্ণনগর ও রাণাঘাট শাখা এবং 'আমরা এক সচেতন প্রয়াস'-এর যৌথ উদ্যোগে সংগঠিত হয়েছে)

* সংশ্লিষ্ট ভিডিও লিংক-

i) https://www.facebook.com/NewMusolli/videos/319396536046999/

 

ii)https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=4388723227836495&id=100000965829168

 

iii)  সুপারিন্টেনডেন্ট ওফ পুলিশ, রানাঘাটকে আমাদের চিঠি  

To

The Superintendent of Police,

Ranaghat, Nadia

 

Sir,

Our organisation, APDR (Krishnanagar Branch) and Amra Ek Sachetan Prayas Forum, draws your kind attention of the fact that Communal forces are spreading hatred in the locality using an inter-faith marriage under your jurisdiction. We are informed that Joyita Haldar, village- Mamjowan, Police Station-Hanskhali, District –Nadia, a Hindu by birth, had married a Muslim by birth namely, Furkan Ali Mondal, resident of the adjoining village Hazrapur, Police Station (PS)- Dhantala, District- Nadia on 3.2.2020 under Islamic Laws. Joyita Halder, before few days of her marriage, was converted to Islam religion and adopted Islamic name, Ayesa Mondal.

On 29th August, 2020, in a social media, ‘Facebook’, a video post was shared. The video went to show that Ayesa alias Joyeta was being interrogated by the Officer-in-charge (O.C.), of Hanskhali Police Station over her marriage with Furkan Ali Mondal. Joyeta replied that she was an adult, studying B. Ed and she had married Furkan Ali Mondal willingly according to her choice and being a free citizen of the country having such constitutional right to marriage to her choice freely.  In the presence of her father and brother, she clearly disclosed that she would not like to go with her father rather she wanted to stay with her husband, Furkan Ali Mondal.  This video also showed that the O.C. was trying influence Ayesa to change her firm stand. The police officer issued threat to Ayesa informing her that her marriage could create communal tension and disharmony, so she should return home with her father.

It is important to note that the said video was posted in social media without any consent of Jyoita @ Ayesa and it is clear that the video was leaked from the police station with deliberate motive and it was posted to create communal rift in the locality.

After that incident, there was public propaganda that Joyeta-Furkan’s marriage was a blatant instance of ‘Love jihad’ and the Muslim youths trying to convert Hindu girls through marriage became viral in the internet. One Jyotirmoy Bhattacherya on behalf of ‘Hindu Communist National Revolution’ used the same verbatim, he spread the canard widely.

Our fact-finding team visited village Hazrapur, native village of Furkan Ali Mondal. We meet his father, Kiran Ali Mondal and also his grandmother. We also interviewed their neighbours. Kiran Ali Mondal and his aged mother informed us that Ayesa and Furkan had left this village. The family had been facing serious trouble for this marriage.

Our fact finding team came to know that on 24 August, 2020 from the Mamjowan village, the native village of Jyoita @ Ayesa, a mob forming an unlawful assembly of 100-150 persons, many of whom were drunk attacked the house of Kiran Ali Mondal at night about 11pm. They searched for the couple and ransacked the house. They trespassed into their room and destroyed their house and threatened to abduct sick wife of Kiran Ali Mondal and his mother. The family of Furkan dared not to lodge complaint with police despite serious crime committed on them but the local police knew everything but they did not take any step against the miscreants. However, on the next night at about 9 p.m., the Police personnel from Dhantola Police Station also came and searched for Furkan-Ayesa. They took Minika Mondal, wife of Kiran Ali Mondal, who was already sick for interrogation to said police station. There was female police party. She was also brought to police station at night in violation of legal provision. There was no warrant of arrest also. She was illegally detained at said Police Station whole night. Due to sudden detention with prolonged interrogation and under severe mental stress, she became sick. Next day, Kiran Ali attended the police station and under repeated request, he could be successful in bringing his wife back at home. Presently, Kiran Ali and his family are panicked, terrorized and have been mentally depressed.

The villagers who interacted with our fact-finding team informed us that the marriage took place in the month of February 2020, but after long gap of six months, a particular political group created pressure on the father of Ayesa @ Jayeta to dispute and deny the marriage and they even tortured him. Under their pressure and under compelling circumstances, father of Ayesa lodged a complaint at Hanskhali Police Station that her daughter was missing and the information was registered as Missing Diary No- 713. Dated-24.8.2020. Kiran Ali also informed us that Maternal uncle of Furkan brought Furkan-Ayesa to Kotowali PS of Krishnanagar, from that PS Furkan was sent to Dhantala PS and Ayesa was sent to Hanskhali PS. At present nobody knows their actual whereabouts. They also informed us that said political group also restricted Muslims of Mamjowan village to perform Namaz at Mosque.

We hereby demand -

1. Furkan-Ayesa marriage took place in the month of February 2020, but after six months with deliberate motive some communal miscreant forces have been creating tension among the communities, so the culprits and the conspirators must be identified and be brought to book in accordance with law.

2. The Police personnel attached with Dhantolla Police Station took mother of Furkan without women police escort to the Police Station at night for alleged interrogation and also illegally detained her for whole night. These were blatant violations of law and legal procedure. The Persons involved in brutal attack to Kiran Ali’s residence were not arrested till date and they are roaming freely on broad day light.  The involved police personnel must be suspended immediately for their misconduct and punished strictly for illegally detaining an innocent woman in police lock up for whole night seriously curbing her fundamental right for free movement.

3. Above all it is clear that both police of Hanskhali and Dhantala Police Stations, extended support to a definite political party, infested with Hindutva forces and also allowed to spread communal contents in social media. We are sure that a definite political group wants communal disturbance in the locality and a definite conspiracy has been hatched for expansion of power of communal forces. We demand immediate arrest of all communal propagandists in the social media and definite legal step should be initiated against the persons posting communal contents in social media under Cyber laws. The police should play neutral role and investigate the matter diligently. The role of the police should also be probed by higher authority. The offenders, delinquent Police officers, hate campaigners, attackers of Kiran Ali’s residence must be booked under law strictly.  

4. Lastly, Police protection should be provided for the safety and security of the family of Furkan immediately and illegal pursuing Furkan and Ayesa must be stopped and they should be allowed to live freely.

Thanks

11 September, 2020

 

Tapas Chakroborty, APDR, Nadia

Subha Protim Roy Chowdhury, AAMRA EK SACHETAN PRAYAS FORUM, Kolkata

 

About author
Generic placeholder image
আমরা: এক সচেতন প্রয়াস
AAMRA is an amalgamation of multidisciplinary team of researchers and activists erstwhile worked as an assemblage of movement, research and activism. Popular abbreviation of AAMRA is, An Assemblage of Movement Research and Appraisal.
1 Comments
  • avatar
    Bhaskar chatterjee

    12 October, 2020

    একমাত্র আসার আলো আপনারা।শ্রেণী বিভক্ত সমাজে ভোট সর্বস্ব partyর কাছ থেকে আশ। করা বৃথা ।অভিনন্দন রইলো প্রবল চাপ এবং ভয়ের পরিবেশের মধ্যে সাধারণ নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

Leave a reply